
শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
“আমি কোনো নেতা নই, আমি জনগণের খাদেম। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত কামলা হিসেবেই কাজ করতে চাই”—এমন আবেগঘন প্রত্যয়ে কিশোরগঞ্জবাসীর সামনে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দিলেন কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম।
সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প খাত সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বস্ত্র ও পাট শিল্পে আধুনিকায়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
“দায়িত্বের চেয়ার পাঁচ বছরের, হিসাব আজীবনের”
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম তার বক্তব্যে দায়িত্ববোধের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“আমার উপর দায়িত্বের চেয়ার পাঁচ বছরের জন্য। পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে হিসাব দিতে হবে। দুনিয়ার কেউ না দেখলেও, উপরওয়ালা তো হিসাব নেবেন।”
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মাঝে এক ধরনের আবেগঘন নীরবতা নেমে আসে। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেখানে ক্ষমতা অনেক সময় প্রাপ্তির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেখানে তিনি নিজেকে ‘খাদেম’ হিসেবে উপস্থাপন করে এক ভিন্ন বার্তা দেন—ক্ষমতা নয়, সেবা; প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন।
উন্নয়নের নকশায় কিশোরগঞ্জ
জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ আনা, টেক্সটাইল ও পাট শিল্পে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে কিশোরগঞ্জের অবকাঠামো ও শিল্প খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
“আমার জন্য কিছু লাগবে না”
নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী বলেন,
“আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট সম্পদ দিয়েছেন। আমার জন্য কিছু লাগবে না। আমি চাই কিশোরগঞ্জ এগিয়ে যাক, মানুষের ভাগ্য বদলাক।”
তার এই বক্তব্যকে অনেকে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
জনগণের দোয়া প্রার্থনা
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি কিশোরগঞ্জবাসীর কাছে দোয়া চান, যেন তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। উন্নয়নকে তিনি তুলনা করেন একটি আমানতের সাথে—যা জনগণ তার হাতে তুলে দিয়েছে। আর সেই আমানত রক্ষা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
কিশোরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের দিকে। প্রতিশ্রুত দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কত দ্রুত ও কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তব রূপ পায়, সেটিই হবে আগামীর বড় প্রশ্ন। তবে আপাতত প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আশার আলো দেখছেন অনেকেই—যেন দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার পূরণের পথে