
আটোয়ারী প্রতিনিধি (পঞ্চগড়)
ঠাকুরগাঁওয়ের ৩ নং ধনতলা ইউনিয়ন পরিষদে ৩০-সেরিয়া সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বহু হতদরিদ্র পরিবার অভিযোগ করেছে, তারা সরকারি বরাদ্দের চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তি আগে থেকেই কার্ড সংগ্রহ করেছেন—এমনকি মোটরসাইকেলে করে এসে সুবিধা গ্রহণের ঘটনাও দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, একটি কার্ড সংগ্রহ করতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে, যা গরিব মানুষের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত অসহায় পরিবারের সদস্যরা লাইনে দাঁড়িয়েও চাল পাননি, বরং বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এমনই একটি ঘটনায় দেখা গেছে—একাধিক মোটরসাইকেল ও তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসে কার্ড যাচাই ও চাল সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, “যারা প্রকৃতপক্ষে চালের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—তারাই বঞ্চিত হচ্ছেন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বয়স্ক ভুক্তভোগী বলেন,
“গরিবের জন্য চাল, কিন্তু গরিবই চাল পায় না। কার্ড নিতে টাকা চায়, আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। আমরা ফিরে এসেছি খালি হাতে।”
এ বিষয়ে অনেকেরই অভিযোগ, তালিকা প্রণয়ন থেকে কার্ড বিতরণ—সব জায়গায়ই রয়েছে বিশৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার অভাব। সাধারণ মানুষ দাবি করছেন, অনিয়মের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সরকার গরিব মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা দিলেও কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির কারণে প্রকৃত অসহায় জনগণ সেই সুবিধা পান না। ফলে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই—
৩০-সেরিয়ার চাল কি শেষ পর্যন্ত গরিবের ঘরেই পৌঁছাবে, নাকি অনিয়মেই হারিয়ে যাবে?