
হায়দার আলী স্টাফ রিপোর্টারঃ
দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছে খায়রুল ইসলাম। তবে ফিরে এসে সে জানতে পারে—যাদের খুঁজে ফেরার জন্য তার বুকের ভেতর এতদিন আকুলতা ছিল, সেই বাবা-মা আর বেঁচে নেই। এ দৃশ্য দেখে খায়রুল এবং উপস্থিত সকলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের বংপুর এলাকা থেকে একটি চৌকস টিমসহ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন রহনপুর ইউনিয়নের আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব মোঃ ইসমাইল হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর খায়রুল বংপুর এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার বন্ধন তৈরি হয়। ক্ষুধা লাগলে এলাকার যেকোনো বাড়িতে ঢুকে খাবার চাইতো এবং সবাই তাকে স্নেহ করে খেতে দিতো।
একসময় খায়রুল বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সাবেক মানবিক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং বর্তমান গোমস্তাপুর উপজেলার ৫ নং রহনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসমাইল হোসেন তাকে নিয়ে একটি ভিডিও করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দ্রুত তার পরিচয় শনাক্ত হয়।
ভিডিওটি তিলকপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম-কে উল্লেখ করে শেয়ার করা হলে তিনি পরিচয় বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তাকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রবিবার ২৩ নভেম্বর তাকে নিয়ে ইসমাইল হোসেন পৌঁছে যান জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শিয়ালাপাড়া গ্রামে। পরিবার ও এলাকাবাসী তাকে দেখে আবেগে ভেঙে পড়ে।
পরিবারের লোকজনকে চিনে খায়রুল জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে এবং একের পর এক পুরনো নাম উচ্চারণ করতে থাকে। এরপর বাবা-মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলে ভাই-বোনেরা চোখ মুছতে মুছতে জানায়—”ওরা এক বছর আগে মারা গেছে।”
এ সময় কান্নার বন্যা বয়ে যায়। উপস্থিত শতাধিক মানুষ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে—দু’চোখে শুধু পানি।
শেষতক— একটি ভিডিওই ফিরিয়ে দিলো হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে। কিন্তু ফিরতে ফিরতেই সে হারিয়ে ফেলেছে তার সবচেয়ে আপন দুইজন— বাবা ও মা।**