স্টাফ রিপোর্টার
তাজলিমা খাতুন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অর্ধশতাধিক মানুষ এই ভন্ড মহিলা কবিরাজের প্রতারণা শিকার হচ্ছেন। আমরা অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছি এই কালোজাদু ব্যাপারে।
এক ভুক্তভোগী নিজ বর্ননা তুলে ধরা হলো।
আসসালামু অলাইকুম,আম ত্রিশাল মাগুরজোড়া থেকে একজন ভুক্তভোগী ফারিয়া ইসলাম তুলি বলছি। আমার বাবা নেই,বড় ভাই দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ প্রায় সব চিকিৎসা করা হয়েছে কোন উপায়ে সুস্থ করা যাচ্ছিল না ইনকামের একমাত্র মাধ্যমে ছিল আমার ভাই। তাই তাকে সুস্থ করার জন্য নিরুপায় হয়ে গিয়েছিলাম।
তারপর আমার প্রতিবেশীর মাধ্যমে পোড়াবাড়ী বাজারের পাশে বাসা এক মহিলা কবিরাজ রাজিবের মা বললে সবাই চিনে তাহার শরণাপন্ন হয় আমার ভাইকে নিয়ে।
মহিলা কবিরাজ তখন আমার ভাইকে দেখে বলে ভাই সুস্থ হয়ে যাবে কিছুদিন আমাদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করলে বিনিময়ে তার যাতায়াত খরচ হলেই হবে।
সেদিন রাতেই আমাদের বাসায় সাথে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে এক পুরুষ নিয়ে আসে আমাদের বাসায় রাত্রিযাপন করবে আর ভাইকে ঝারাফোড়া করবে।
এভাবে প্রতিদিন আসতো আর সকালে চলে যেত,তিন চার দিন পর অদ্ভুত কিছু ঘটতে শুরু করলো মহিলা কবিরাজ আমাদের ফ্যামিলির সবাইকে কেমন জানি করে ফেলছে। চিকিৎসার কথা বলে আমাদের কাছে যা চাইতো তাই দিয়ে দিতাম,এভাবে প্রতিদিন অনেক গুলো টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারি নাই,আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
যখন আর আমাদের দেওয়ার মতো কিছু ছিল না হঠাৎ অই কবিরাজ আমাদের বাড়িতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
ভাইকে সুস্থ করার জন্য আমরা নিরুপায় হয়ে গিয়েছিলাম,আমার ফ্যামিলি তখন বাধ্য হয়ে কবিরাজের এলাকায় খোঁজ নেই।
পরে জানতে পারি এই মহিলা কবিরাজ একজন ভন্ড প্রতারক,তার স্বামী নেই। চিকিৎসার কথা বলে মানুষের বাসায় রাত্রি যাপন করে। মহিলা এবং পুরুষ দুইজনই কালো জাদু করে মানুষকে ভুলিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়।
তাছাড়া অনেক পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে কালোজাদুর মাধ্যমে কেউ ভয়ে কিছু বললে তার উপর ব্লাক ম্যাজিক করে।
আমার মতো শতাধিক ভুক্তভোগী আছে যাদের কোন না কোন মাধ্যমে নিঃস্ব করে দিয়েছে। মহিলার সাথে যোগাযোগ করলে আমদের হুমকি দেয় ব্লাক ম্যাজিক করে জীবন ধ্বংস করে দেবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে যে আর কোন পরিবার নিঃস্ব হওয়ার আগে এই ভন্ড প্রতারকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। মর্নিং বিডি ডট নিউজ ময়মনসিংহ ত্রিশাল।