জাহাঙ্গীর আলম জামালপুর -ঃ
দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজ দুপুর ১৬.৩০ ঘটিকায় পিয়ারপুর স্টেশনে পৌঁছালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়ে যান চালক। স্টেশনে ঢোকার পর ঢ ও ন বগির মাঝামাঝি সংযোগস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাট খুলে যাওয়ায় বগিটি ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি টের পেয়ে ট্রেনচালক দ্রুত ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদে থামিয়ে দেন। তার এই বিচক্ষণ সিদ্ধান্তে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় শতাধিক যাত্রী।
ঘটনার পরপরই বিচ্ছিন্ন হওয়া বগিকে ইঞ্জিনের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করার কাজ শুরু করেন রেলওয়ের টেকনিক্যাল টিম। এ সময় পিয়ারপুর স্টেশন মাস্টার মমিনুল হক জানান, “মেরামত কাজ চলমান আছে, আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে৷ যাত্রীদের কোন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। চালকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সম্পূর্ণ মেরামত শেষে ট্রেনটি পুনরায় চলাচলে ফিরতে ১৮.০০ ঘটিকা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।”
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর জামালপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যরত রেলওয়ে কনস্টেবল ও এসআই-দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্টেশনে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা স্টেশনের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকেন।
স্থানীয় মানুষজন ও যাত্রীদের অনেকেই এই দ্রুত উদ্যোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “পুলিশ জনগণের বন্ধু—এই ঘটনায় সেটাই আবারো প্রমাণ করলেন জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।”
চালকের বিচক্ষণতা, স্টেশন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োচিত উপস্থিতিতে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়—এমনটাই জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।