
মোঃ ইব্রাহিম খলিল//
সরকার পরিবর্তন হলেও মাঠ প্রশাসনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের চিত্র যেন একই রকম রয়ে গেছে—এমন অভিযোগই তুলছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় পাওয়া গেছে তারই দৃষ্টান্ত। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ২ মাসের ৫৬০ মেট্রিক টন চাল কালোবাজারে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমার হুমায়ুন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কাওসার আহমেদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মোহনগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে বদলি হয়ে আসা কেন্দুয়া খাদ্য গুদামের দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলাটির ১৩টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৪১৮ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে এই চাল বিতরণের কথা ছিল। তবে সুবিধাভোগীগণ অভিযোগ করেছেন—আমরা এক কেজি চালও পাইনি উক্ত ২ মাসের
স্থানীয় সূত্র জানায়, বরাদ্দ পাওয়া ২৬ জন ডিলারকে না জানিয়ে সুকৌশলে পুরো চালই গোপনে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। বাজারদর অনুযায়ী এ চালের মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি—এ অনিয়মের মূল নায়ক উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাবির সূর্য সেন হলের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন, এবং তাঁর আপন ভাইও (পলাতক) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক । রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য বিভাগের কাজে অস্বচ্ছতা চলে আসছিল। মোহনগঞ্জ খাদ্য গুদামে দায়িত্বকালীন সময়ে মাল বিক্রি করে দেওয়ার মত ঘটনা ঘটিয়ে ছিলেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সে সময় পার পেয়ে যান।
এছাড়া বিভিন্ন সূত্র দাবী করেছেন—জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে তাঁর “নিবিড় সখ্যতার আলামত” রয়েছে এবং এই সম্পর্কের জোরেই এমন অপকর্ম দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল।
সুবিধাভোগীরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার–এর কাছে লিখিতভাবে জানালে তিনি একাধিক শুনানি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন,“ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি চলছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ খাদ্যগুদামে মওজুদ খাদ্যশষ্য নিম্নমানের সহ নানা অনিয়ম থাকা সহ TNO তদন্ত কমিটি গঠন ও শুনানি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
সংবাদ শিরোনাম হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তদন্ত কাজ শুরু করা হয়নি।
অভিযোগ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাওসার আহমেদ স্বীকার করেন যে আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসের চাল বিতরণে “কিছুটা অনিয়ম হয়েছে।” তবে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। অপরদিকে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান ওসিএলএসডি।
কেন্দুয়া উপজেলার সাধারণ মানুষ ও সুবিধাভোগীরা বলছেন
সরকার বদলায়, কিন্তু খাদ্য বিভাগের মাঠ প্রশাসনের দুর্নীতি বদলায় না।