ঝালকাঠি প্রতিনিধি: মোঃ জাহিদ
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ইতিহাসে যুক্ত হলো এক গৌরবময় অধ্যায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামে।
আজ শুক্রবার ২ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নামফলক উন্মোচন করেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ হাদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল করিম, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হাবিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নৌ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন,
“শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই নলছিটিতেই। তার শৈশব, কৈশোর ও জীবনের স্মৃতি এই লঞ্চঘাটকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। তাই এই ঘাটের নাম তার নামে রাখা একটি যথার্থ ও সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন,
“হাদি শুধু একজন মানুষ নয়, তিনি একটি আদর্শ। ন্যায় ও সৎ রাজনীতির পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।”
নলছিটি লঞ্চঘাট ছিল শহীদ হাদির শৈশবের নীরব সাক্ষী। এখানেই কেটেছে তার জীবনের বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। লঞ্চঘাট থেকে মাত্র পাঁচশ মিটার দূরেই তার পৈতৃক বাড়ি। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানুষের আসা–যাওয়া দেখা ছিল তার প্রিয় অভ্যাস।
স্থানীয়রা জানান, শহীদ হাদির নামে লঞ্চঘাটের নামকরণ একটি ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে নতুন প্রজন্ম তার আত্মত্যাগ ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারবে।
লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম বলেন, “হাদিকে আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। আজ তার নামে এই ঘাট হওয়ায় আমাদের গর্ব হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে তার মরদেহ দেশে এনে ঢাকার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।