মোঃ ইব্রাহিম খলিলঃ
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা এলাকায় নকল সার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে সাপ্তাহিক"ইনকোয়ারী রির্পোট''ও বিজয় টিভি'র নকলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ইউসুফ আলী মন্ডল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
জানা যায়, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ইউরিয়া সার প্রতি বস্তা ১৪০০ টাকা, ডিএপি সার ১৪০০ টাকা এবং এমওপি সার ১১০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ডিএপি সার বাজারে না পাওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাংবাদিক ইউসুফ আলী মন্ডল তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জন্য শাওন ট্রেডার্সের আবু মিয়ার দোকানে যান। পরবর্তীতে তিনি লাভনী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও সার ডিলার সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, প্রমাণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকের “জান থাকবে না”।
এরপর সাংবাদিক পাশের শহিদুল ইসলাম (গোড়া মিয়া)-এর দোকানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল ইসলাম হঠাৎ সাংবাদিকের শার্টের কলার চেপে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং হাত ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাংবাদিকের হাত ফুলে যায় ও আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় দোকানে থাকা আরেক ব্যক্তিও হামলায় অংশ নেয়, সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করে। হামলাকারীরা সাংবাদিকের সঙ্গে থাকা নগদ ৭৫০ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে দোকানে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি প্রহার করা হয়।
উল্লেখ্য, দুই দিন আগে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ৪৯ মেট্রিক টন সার জব্দ হওয়ার ঘটনায় বিজয় টিভি(অনলাইন পোর্টাল) এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাংবাদিকদের উপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু ব্যক্তি বিশেষের উপর আঘাত নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।