
নিজস্ব প্রতিবেদক স্বাধীন বাংলা টিভি।
‘সাপাহার থানা’ নওগাঁ জেলার ১১টি থানার মধ্যে জনসংখ্যা এবং আয়তনে ২য় ক্ষুদ্রতম ।
এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও নওগাঁ জেলার পোরশা এবং পত্নীতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি এলাকা।
১৯৭৯ হতে সাপাহার পুলিশ থানার কার্যক্রম শুরু হয় , যা পূর্বে পোরসা থানার অন্তর্ভুক্ত ছিল । তবে ১৯৮৩ সালের ২ জুলাই একটি মানোন্নীত থানা হিসেবে, এবং পরে ১৯৮৫ সালে এটি উপজেলায় উন্নীত হয়।
সাপাহার নামকরণের সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া না গেলেও লোকমুখে গল্প কাহিনীর প্রচলিত আছে যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সুফি সাধক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শম্পা রাণীর প্রেমের ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখতে এলাকার নাম হয় শম্পাহার। কালের আবর্তনে সেই শম্পাহার থেকেই বর্তমান সাপাহার, কাহারো মতে প্রাচীন কালে এখানে এক উপজাতি বাস করত যাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাদ্য ছিল গুইসাপ । তারা এই গুই সাপ গুলিকে ধরে খেত এবং তার চামড়া দিয়ে সুন্দর সুন্দর মানিব্যাগ ও তাদের বাচ্চাদের গলার হার তৈরী করত মূলত সেই থেকেই এই স্থানের নামকরণ হয়েছে সাপাহার।
২৪৪.৪৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ১৩৯টি মৌজার উপজেলাটিতে গ্রাম রয়েছে ২৩২টি যেখানে 2 লক্ষাধিক লোকের বসবাস। ঐতিহ্য হিসেবে এখনে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর আয়তনের একটি বিশাল জলাশয় যার নাম ঐতিহ্যবাহী জবই বিল পূর্ব নাম ডমরইল যা কালের বিবর্তনে জবাই বিল নামকরণ হয়েছে। সাপাহার উপজেলায় একটি মাত্র নদী আছে যার নাম পূর্নভবা নদী। এ নদী ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মালদাহ জেলার ভিতর দিয়ে সাপাহার উপজেলার ৫ নং পাতাড়ী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে।
সাপাহার থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাধারণত স্বাভাবিক থাকলেও মাঝেমধ্যে রোড ডাকাতি, মাদক, চোরাচালান, সড়ক দুর্ঘটনা, শিশু নির্যাতন, ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের ফলে সৃষ্ট অপরাধ উল্লেখযোগ্য । সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক সেবন ও চোরাচালান একটি বড় সমস্যা। জেলা পুলিশ এবং সাপাহার থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে মাদক প্রতিরোধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়াও সড়কে রোড ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ নিয়মিত সড়কে টহল দিচ্ছে। সর্বোপরি সাপাহার উপজেলার জনগণের জীবন এবং সম্পত্তি নিরাপত্তা বিধানে সাপাহার থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে।
মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নওগাঁ