দিনাজপুর প্রতিনিধি
'বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদির দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায়, মামলার ভিকটিম একজন এনজিও কর্মী। কাজের সুবাদে অত্র মামলার আসামি মোঃ আতিকুল ইসলাম (২৪) ভিকটিমের ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ৫/৬ জন ব্যক্তি পলিসি করবে বলে ভিকটিমকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবগত করেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৮/০১/২৬ দুপুর ১২.৩০ মিনিটে সময় ভিকটিম কয়েক দফা ফোন কলের ভিত্তিতে স্থানীয় ডাঙ্গারবাজারে যায়। ডাঙ্গারবাজার থেকে আসামির সাথে চিরিরবন্দর থানায় ১ নং নশরতপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কোম্পানীর মোড় হতে নশরতপুর ফকিরপাড়াগামী পাকা রাস্তা সংলগ্ন জনৈক উত্তম কুমারের ভুট্টাক্ষেতের পাশ দিয়ে কথিত গ্রাহকের বাড়িতে যাওয়ার সময় দুপুর ০১.৩০ ঘটিকার সময় আসামিদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আগে থেকে ওৎপেতে থাকা অত্র মামলার সহযোগী আসামিগণ জোরপূর্বক ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে প্রথমে গ্রেফতারকৃত আসামি ভিকটিমকে ধর্ষণ করে পরে সহযোগী আসামিরা পালাক্রমে গণধর্ষণ করে এবং গ্রেফতারকৃত আসামি ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারন করে। এক পর্যায়ে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামিগণ ভিকটিমকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইং ৩০/০১/২০২৬ ভিকটিম বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) তৎসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৭) ধারায় একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২২/২৫ ।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর এবং র্যাব-১০, সদর কোম্পানী, কেরানীগঞ্জের চৌকস যৌথ আভিযানিক দল ইং ২৬/০২/২০২৬ তারিখ বিকাল ৩ টার সময় ঢাকার বংশাল থানাধীন গুলিস্তান কাপ্তান বাজারে অভিযান পরিচালনা করে অত্র মামলার এজাহার নামীয় ২ নং আসামি- চিরিরবন্দর থানা নরশতপুর (মাছুয়াপাড়া), গ্রামের কানু চন্দ্র রায়ের ছেলে বিশ্বনাথ রায় (২৬), পিতা- কানু চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যাসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের দসাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।