স্টাফ রিপোর্টার
তাজলিমা খাতুন
টাঙ্গাইলের জেলার গোপালপুর উপজেলার গোপালপুর সোনালী ই- ওয়ালেটের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগাযোগ সহায়তায়একটি প্রতারক চক্র ৩৩ লাখ টাকা জালিয়াতির করে হাতিয়ে নিয়েছে।
গোপালপুর শাখার হিসাব নম্বর ৬০১০৩৩৪০৩৫৪৯৫ থেকে নারায়নগঞ্জের সোনালী ব্যাংক ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার ৩৬০৯৫০১০০৬৮৯৮ হিসাব নম্বর থেকে এ বিপুল পরিমাণ টাকা সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের হিসাবে টাকা স্থানান্তর করে প্রতারক চক্র। এর মধ্যে ২১ লাখ ৩১ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে ওয়ালেট একাউন্ট টু একাউন্ট এনপিএসবি মাধ্যমে স্থানান্তর করে। আর দুটি জুয়েলার্সে আরটিজিএসের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকার সোনা কিনে। এ বিষয়ে গোপালপুর থানায় ধারা ৪২০/৪০৬/৪১৯/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২১(২) মামলা দায়ের করেছেন মো. ছানোয়ার হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মো. ছানোয়ার হোসেন মিজ্ঞা (৬০) (এনআইডি ৯৩২৩৮০১৬৭৭৪৭২) অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। কয়েকদিন যাবৎ অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মোবাইল নং-০১৩০১-০৪৭৭০৭ থেকে ভুক্তভোগীর ছানোয়ারের ব্যবহৃত ০১৭২১-৫৬০৯৬৮ নম্বরে কল করে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বিবাহর কথা এবং দেখা করার কথা বলে। একপর্যায় উক্ত অজ্ঞাত ব্যক্তিসহ আরো দুইজন মেয়ে দেখার কথা বলে গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ছানোয়ারের বাড়ীর পাশে মো. আজমত আলীর মুদির দোকানে আসেন এবং কৌশলে তাহার মোবাইলে ব্যবহৃত সিম কার্ডটি খুলিয়া নেয় এবং তার মোবাইল ফোনে তাহারা অন্য একটি সিম কার্ড ঢুকাইয়া রাখে। যাহার সিম নং-০১৩৪৪-০৬৩৪৪৬। গত ২১ নভেম্বর ছেলের মাধ্যমে জানতে পারে ব্যবহৃত সিম কার্ডটি তার না। পরে বুঝতে পারে উক্ত সিম কার্ডটি প্রতারণা করে নিয়ে গেছে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পেরে গ্রামীণ ফোনের কাস্টমার কেয়ারে বিষয়টি জানিয়ে সিমটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর তার নিজ নামীয় সোনালী ব্যাংক গোপালপুর শাখায় খোঁজ নিয়া জানতে পারে যে, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সোনালী ব্যাংক গোপালপুর শাখা হিসাব নম্বর ৬০১০৩৩৪০৩৫৪৯৫ থেকে ছানোয়ার হোসেনর জাতীয় পরিচয় পত্র ও তার নিজ নামীয় রেজিট্রেশন করা মোবাইল সিমকার্ড দিয়ে ব্যাংকে রক্ষিত কোন ছবি, স্বাক্ষর, পরিচয়পত্র সহ সকল তথ্য পর্যান্ত যাচাই বাছাই না করেই সোনালী ব্যাংক পিএলসি গোপালপুর শাখা কর্তৃপক্ষ প্রতারক চক্রের আবেদনক্রমে সোনালী ই-ওয়ালেট অনুমোদন করে। পরবর্তীতে আমার হিসাব নম্বর হইতে সোনালী ই-ওয়ালেট মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজসে অজ্ঞাত নামা প্রতারক বা প্রতারকগণ ৩৩,০০,০০০/-(তেত্রিশ লাখ) টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ছানোয়ার হোসেন ছেলে যায়িদ হাসান বলেন, আমি ২১ নভেম্বর বাড়ি এসে বুঝতে পারি যে, আব্বার ফোনে ব্যবহৃত সিম কার্ডটি আকবার নয়। তখন আব্বাকে জিজ্ঞেস করি, "তোমার ব্যাংক হিসাব নম্বর কোন সিমের সাথে সম্পর্কিত কিনা সে জানায় এই সিমের সাথে সব কিছু করা। তারপর আমি গ্রামীণ সিম অপারেটিং কোম্পানির হট লাইন নাম্বারে কল দিলে আব্বার চুরি হওয়া সিমটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করাই এবং সোনালি ব্যাংক পিএলসি গোপালপুর শাখায় যোগাযোগ করি তখন জানতে পারি যে আব্বার হিসাব নম্বর থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা নারায়নগঞ্জের সোনালী ব্যাংক ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখার ৩৬০৯৫০১০০৬৮৯৮ হিসাব নম্বর থেকে এ বিপুল পরিমাণ টাকা সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের হিসাবে টাকা স্থানাস্কর করে নেয় প্রতারক চক্র। তিনি আরও বলেন, ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআইসহ ব্যাংকে গিয়ে, আমি ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞাসা করি কিভাবে আমার আব্বার একাউন্ট থেকে টাকা আব্বার অজান্তে স্থানান্তরিত হল। সে সময় আমাদের এবং পুলিশের উপস্থিতিতে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা হাসিব হাম জালাল আমাদের বলেন, গত ১৩ নভেম্বর প্রতারক ব্যাংকে এসে ই-ওয়ালেটের ব্যাপারে কথা বলে এবং কি কি তথ্য প্রয়োজন ই-ওয়ালেট ওপেন করতে তা জানতে চায়। সেদিন প্রতারক চলে যায় এবং, ১৯ নভেম্বর আবার ব্যাংকে আসে এবং ব্যাংকের বাহিরে অপেক্ষা করতে থাকে, আমি প্রবেশ করার সময়, তারা আমার সাথে সোনালী ই-ওয়ালেট খোলার জন্য আগ্রহী প্রকাশ করে। সেই সময় আমি তাদের ই-ওয়ালেট খোলার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য জিজ্ঞেস করলে তারা আমাকে সমস্ত তথ্য সঠিক ভাবে দেয় এবং নিজেকে ছানোয়ার হোসেন বলে দাবী করে। তারপর, আমি ব্যাংকের ভিতরে এসে ই-ওয়ালেটের অনুমোদন প্রদান করি। ফলে ৩৩ লক্ষ টাকা অন্য একাউন্ট এ স্থানান্তরিত হয়। হাসিব হাম জালাল আরো বলেন, বিষয়টি আমার একদমই উচিত হয় নি। আমার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিলো এবং আরো যাচাই বাচাই করা উচিত ছিল। কাজেই সে তাদের যোগসাজস থাকতে পারে বলে আমি মনে করি। ভুক্তভোগী ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমি সাবেক প্রধান শিক্ষক আমার পেনশনের টাকা সহ সর্বমোট ৫৭ লক্ষ ৬০ হাজার ৯ শত চৌত্রিশ টাকা ছিল। সেখান থেকে আমার ৩৩ লক্ষ টাকা প্রতারক চক্র ব্যাংক থেকে তুলে নেয় আমার শুধু মোবাইল নম্বর চুরি করে। গত ২১ নভেম্বর শুক্রবার সকালে আমাদের ব্যাংক এ ডাকা হয় কিন্তু তারা কোন তথ্য প্রকাশ করে না বরং থানায় জিডি করতে বলে। আমি থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ রবিবার অর্থাৎ ২৩ নভেম্বর ব্যাংক স্টেটম্যান্টসহ যেতে বলে। পরে ২৩ নভেম্বর আমি ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক স্টেটম্যান্ট সংগ্রহ করে জানতে পারি যে, আমার হিসাব নাম্বার হতে ৩৩ লক্ষ টাকা নারায়ণগঞ্জ সোনালি ব্যাংক পিএলসি শাখার ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্রাঞ্চে পিজুস রায় নামক এক ব্যক্তির হিসাব নাম্বারে প্রতারক চক্র সোনালি ব্যাংক পিএলসি গোপালপুর, টাঙ্গাইল শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজসে স্থানার করেছে। সোনালি ব্যাংক পিএলসি গোপালপুর, টাঙ্গাইল শাখার ম্যানেজার ২৪ নভেম্বর প্রতিনিয়ত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এই কথাগুলোই বলছে যে, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণদের অবগত করা হয়েছে এবং অতি শীঘ্রই সম্পূর্ন টাকাই ফেরত পাবেন। কিন্তু এখনো কোন টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মামলা তদড়কারী কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলী বলেন, এবিষয়ে ওসি স্যারের সাথে কথা বলেন। স