আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
ছিনতাইকারীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে স্ত্রীসহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ফজলে রাব্বি (২৮)। গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের বোয়ালিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় তিনি এ হামলার শিকার হন। তবে ঘটনাস্থলটি নওগাঁ সদর থানা এলাকায়।
ফজলে রাব্বির মাথা, ডান গাল, ডান বাহু রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রামদা ধরে ফেলায় তাঁর স্ত্রী পলি খাতুনের ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে গেছে। একটি আঙুলের শিরাও কেটে গেছে। ফজলে রাব্বির বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মাইস্তা গ্রামে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে।
এ ব্যাপারে চিকিৎসাধীন ফজলে রাব্বি বলেন, তিনি শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও সাত বছরের ছেলে ছাড়াও স্ত্রীর বড় বোন ও বোনের ননদ ছিলেন। তাঁরা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ভোরে সান্তাহার স্টেশনে নামেন। স্টেশন থেকে সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা নিয়ে ফজলে রাব্বি শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। স্টেশন থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে যেতেই সিএনজির দুই পাশ থেকে টর্চলাইট ধরা হয়। তাঁরা ভেবেছিলেন হয়তো পুলিশ।
ফজলে রাব্বি আরও বলেন, কিন্তু ওই ব্যক্তিরা এসেই তাঁর মুঠোফোন বের করতে পকেট হাত দেন। পেছনের আসন থেকে একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ব্যাগে দুটি মুঠোফোন, গয়না ও অন্যান্য জিনিস ছিল। ছিনতাইকারী বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পেছন থেকে এসে তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তিনি পড়ে গেলে রামদা দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনার সময় পেছন থেকে আরও দুটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা আসছিল। ওই দুটি গাড়ির আলো দেখতে পেয়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। ফজলে রাব্বি ও তাঁর স্ত্রীকে তাঁদের অটোরিকশার চালক নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে তাঁদের পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, শোনার পরপরই তিনি ও তাঁর সার্কেলের এএসপি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। ঘটনাস্থলটি নওগাঁ সদর থানার মধ্যে পড়েছে। যাঁরা ঘটনার শিকার হয়েছেন তাঁরা এখনো আসেননি, মামলা করেননি।