গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মোসাঃ সুলেখা খাতুন (৪৭)–এর ওপর হামলা, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আইনাল হকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সদস্য গোমস্তাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চৌডালা ইউনিয়ন পরিষদে সরকারী বরাদ্দে রাস্তা সংস্কারের ১৫টি প্রকল্প আসে। কিন্তু প্রতিহিংসাবশত একজন নির্বাচিত সদস্য হয়েও সুলেখা খাতুনকে কোনো প্রকল্প দেওয়া হয়নি। অপরদিকে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আইনাল হক একাই চারটি প্রকল্প গ্রহণ করেন।
এ নিয়ে দুই সদস্যের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) সকাল সাড়ে ১০টায় শুক্রবাড়ি গ্রামের একটি রাস্তা সংস্কারস্থলে বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় সদস্য আইনাল হক উত্তেজিত হয়ে সুলেখা খাতুনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং এলোপাথাড়িভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এছাড়া তার মাথার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করেন এবং বোরখা ও ওড়না টেনে শ্লীলতাহানি ঘটান।
তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সদস্য আইনাল হক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে শুক্রবাড়ি গ্রামের সেফালী বেগম, হাফিজুল ইসলাম, আবোল হোসেনসহ কয়েকজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সুলেখা খাতুন গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আইনাল হক জানান, আমার কাজে বাধা দেওয়ার কারণে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আর কাজের অনিয়মের অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জেনারুল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।